যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
 যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানার উৎপাদন আবারও থমকে গেছে। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর কারখানাটি পুনরায় চালু হয়েছিল, কিন্তু মাত্র দুই দিনের মাথায় বয়লারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বুধবার বিকেলে ফের সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান মো. ফজলুল হক জানান, গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে গত সোমবার রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে কারখানায় পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকার কারণে বয়লারে ত্রুটি দেখা দেয় এবং বুধবার বিকেলে বাধ্য হয়ে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হয়।

তবে কারখানার অন্যান্য যন্ত্রাংশ পুরোপুরি সচল রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবারের মধ্যে বয়লারের এই ত্রুটি সারিয়ে কারখানাটি আবারও উৎপাদনে ফিরতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি শুরু করা না গেলেও এই দুই দিনে মোট ১ হাজার ৬০০ টন সার উৎপাদিত হয়েছে।

যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার এই ধারাবাহিকতা বেশ পুরোনো। গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক জটিলতার কারণে এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস কারখানাটি বন্ধ ছিল। এরপর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও লাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে সোমবার রাতে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ পাওয়ায় উৎপাদন শুরু হলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হলো না। উল্লেখ্য, দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে গ্যাসের স্বল্প চাপ ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টনে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন এই কারখানাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন ডিলারের মাধ্যমে সার সরবরাহ করা হয়।

কারখানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ থাকলে মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন করা সম্ভব, যেখান থেকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মুনাফা আসে। অথচ উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শুধু কারখানার যন্ত্রাংশ সচল রাখতে প্রতি মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকার গ্যাস বিল গুনতে হয় কর্তৃপক্ষকে। ফলে বারবার উৎপাদন বন্ধ হওয়ার কারণে কারখানাটি আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

Link copied!